নামঃপ্রকৃত নাম ফয়জুল্লাহ,উপাদি মুফতি আজম , খাকি হিসেবে বিশেষ পরিচিত ছিলেন।হযরতের পিতার নাম জনাব মুনশী হেদায়েত আলী চৌদুরী।তিনি বাংলাদেশের সুপ্রসিদ্ধ স্বণ`প্রসবীনি শহর ও ইলমের মারকাজ ইসলামাবাদ(চট্রগ্রামের) অত্যন্ত প্রসিদ্ধ থানা হাটহাজারীর মেখল গ্রামে একটি উচ্চ মর্যাদাশীল বংশে জন্ম গ্রহণ করেন। হযরতের পিতা অত্যন্ত দ্বীনদার ব্যাক্তি ছিলেন।মুজাহিদে মিল্লাত হযরত শাহ আব্দুল হামিদ সাহেব (রহঃ) এর ঘনিষ্ট বন্ধু ছিলেন।হযরতের পিতা তার চাচাতো বোনকে বিয়ে করেন ।হযরতের মাতার নাম জনাবা রহিমুননিসা, তিনিও অত্যন্ত মহিয়ষী দ্বীনদার ও দানশীলা মহিলা ছিলেন।
জন্ম ও বংশঃহযরত মুফতি আযম ফয়জুল্লাহ (রহঃ) ১৩১০হিযরী মোতাবেক ১৮৯০ ইংরেজী সনে জন্ম গ্রহণ করেন।হযরতের বংশের লোকেরা ঐ যুগে অনেক প্রশিদ্ধ ও নাম করা লোক ছিলেন।সবাই বড় বড় সরকারী পোষ্টে কর্মরত ছিলেন। হযরতের দাদা মুনশী দেওয়ান আলী মেখল নামক গ্রামে নিজের সহায় সম্পত্বি দেখাশোনা করার জন্য চলে আসেন।এখানেই তিনি বিয়ে করেন স্বীয় আত্বীয়তার সূত্রে উনার চাচাতো বোন ছিলেন। মুনশী দেওয়ান আলী চৌদুরীর এক ছেলে ছিল মুনশী হেদায়েত আলী চৌদুরী। যিনিই হযরতের পিতা ছিলেন।
লেখাপড়াঃ হযরতের মরহুমা মায়ের অসিয়ত অনুসারে,হযরতের বয়স যখন সাত বছর, তখন তার খৎনা অনুষ্ঠান করা হয়,সেসময় বড় আকারের খানা-পিনার আয়োজন করা হয়। ঐ সময় তাকে উত্তম পোশাক পরিধান করিয়ে, হযরত মাওলানা আব্দুল কাদের (রহঃ) এর খেদমতে উপস্তিত করিয়ে তার জন্য দোয়া করানো হয় এবং উনার হাতেই তার লেখা-পরা শূরু হয়।হহযরত আব্দুল কাদের (রহঃ) হযরত রশীদ আহমদ গঙ্গুহী (রহঃ) এর খাছ ছাত্র ছিালেন।এরপর মাওলানা আমীর আলী রাওজানীকে তাদের ঘরে লজিং রাখা হয় তাকে প্রাথমিক লেখা-পড়া করানোর জন্য।
হাটহাজারী গমনঃমুফতি আজম ফয়জুল্লাহ (রহঃ) এর বয়স যখন এগারো, তখন তাকে হাটহাজারী মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়।লেখা-পড়া জীবনের শুরুতেই একতো মাতৃহীন অবস্থায় পড়ালেখা করেন।এরই মধ্যে আরাই বছরের মাথায় সৎ মাতা ইন্তেকাল করেন। শত বাধার মধ্যেও পড়া লেখায় তিনি ছিলেন অবিচল।কোন কিছুই তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। প্রতিদিন বাড়ি থেকে আসা যাওয়া করে পড়া-লেখা করতেন।এরই মধ্যে মাএলানা আঃহামিদ সাহেবের পরামর্শক্রমে রঙ্গীপাড়া লজিং নেন।লজিং বাড়ির লোকজন তার আচার আচরনে মুগ্ধ হয়ে তাকে মহ্বত ও স্নেহ করতেন। হজরতের লেখা-পড়ায় একাগ্রতা, একনিষ্টতা ও মেধাশক্তি দেখে মুগ্ধ হন।হজরতে ওস্তাদ গণ তাকে সবসময় চোখে চোখে রাখতেন।ওস্তাদদের নেক নজর আর উনার চেষ্টা মেহনতে প্রতিবছর ক্লাসে প্রথমস্থান দখল করতেন।
দেএবন্দ মাদ্রাসায় গমনঃদেওবন্দ মাদ্রাসায় গমনের ছয় মাসের মাথায় হজরতের পিতা ইন্তেকাল করেন। সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব এসে পরে তার উপর।এতসত্বেও মনোযোগ দিয়ে পড়া-লেখা করতে থাকেন।প্রথম বছর ফুন্নাত পড়ার পর দ্বিতীয় বছর দাওরা হাদিসে ভর্তি হোন।বুখারী শরিফের ক্লাস হজরত মাহমুদুল হাসান দেওবন্দী (রহঃ) এর নিকট শুরু করেন।কিন্তু তিনি অল্প দিনের মাথায় হজ্বের উদ্দেশ্যে মক্কায় গমন করেন।তার সমস্ত পাটদান হজরত আনোয়ার শাহ কাস্মিরী (রহঃ) কে বুঝিয়ে দেন।হজ্ব থেকে আসার সময় তাকে ইংরেজরা গ্রেফতার করেন।ফলে বুখারী শরীফ আনোয়ার শাহ কাস্মিরী (রহঃ) এর কাছে শেষকরেন।মুসলিম শরীফ হজরত শিব্বির আহমদ উসমানী (রহঃ) এর কাছে অধ্যয়ন করেন।ইলমের অন্যান্য শাখা হাসিল করার পর উস্তাদদের সংস্পর্শে থাকার প্রতি মনোনিবেশ করেন।কিন্তু ছোট ভাই বোনদের দায়িত্ব ও পারিবারিক বাধ্যবাদকতার কারনে উস্তাদদের পরামর্শক্রমে মুহাররম মাসে ১৩৩৪ হিজরি বাড়িতে পত্যাবর্তন করেন।
বাল্য জীবনের নানা ঘটনাবলিঃহজরতে আম্মা তাকে নিয়ে দুরচিন্তা করতেন।কারণ তিনি অন্যান্য শিশুদের মত দৌড়াদৌড়ি, খেলাধুলা করতেন না।তাকে যেখানে বসিয়ে রাখা হত, সেখানেই বসে থাকতেন।আম্মাজান মনে করতেন আমার ছেলে হয়তো বোকা বা প্রতিবন্ধী হবে।কিন্তুু এটাই ছিল একজন আল্লাহর ওলীর বাস্তবিক শিশু কাল। ছোটবেলায় কখনও দাড়িয়ে পেশাব করতেন না,নেংটা থাকতেন না।এ সবই ছিল তার বড় হবার নিদর্শন।ঘটনা(১)উর্দুখানার কিতাবে পরেছেন অনাত্বীয় মহিলাদের সাথে দেখা করা যায়েজ নাই।তাই তিনি মাদ্রাসা থেকে এসে বাড়িতে না গিয়ে কাচারি ঘরে বসে পড়া আরম্ব করেন।আব্বাজান যখন ডাকতে আসেন,তখন জবাবে তিনি বলেন আব্বাজান নিজ কিতাবে পড়েছি মেয়েদের সাথে দেখা করা হারাম।তাই বাসায় গেলে মহিলাদের সাথে দেখা হলে গুনাহ হবে।আব্বাজান তাকে অনেক বুঝালেন কোন লাভ হল না,অবশেষে উস্তাদের মাধ্যমে বুঝানোর পর আবার ঘরে আসা যাওয়া শুরু করেন।ঘটনা(২):প্রতিদিন মাদ্রাসায় আসা যাওয়া করে পড়া-লেখা করতেন।একদিন যখন চেংখালি ব্রিজ নামক খালের কাছে আসেন, তখন ব্রিজ ছিল না।যখন তিনি খালে নামেন তখন তিনি নিজেকে সম্বোদন করে মনে মনে বলেন দেখ ফয়জুল্লাহ তুমি যদি কাপড় তুলে খাল পার হও, তবে কাপড় বিজবে না কিন্তুু সতর খুলার কারণে জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হবে।আর যদি কাপড় বিজিয়ে পাড় হও তাহলে আগুন দেখে বাঁচবে।জাহান্নামের আগুন সহ্য করতে পারবে না বিধায় পানিতে বিজে পার হোন।এমনি ছিল মুফতি ফয়জুল্লাহ (রহঃ) বাল্য জীবন।
উস্তাদ জীবনঃ দেওবন্দ থেকে আসার পর ঐ বছরই হাটহাজারী মাদ্রাসায় উস্তাদ হিসাবে নিযুক্ত হোন।হজরতের আখলাক,চরিত্র ও খোদা ভীতি দেখে তাকে মাতৃগর্ভ থেকে ভুমিষ্ট ওলী হিসাবে সিকৃতি দান করেন।অল্প দিনের মধ্যে শাইখুল ইসলাম মাওলানা হাবিবুল্লাহ(রহঃ) তাকে ফতোয়া লেখার দায়িত্ব প্রাদান করেন।১৩৩৪হিজরি ১৩৯৬ প্রায় ৬২ বৎসর পর্যন্ত হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রধান মুফতি ছিলেন। কিছুদিন পর ওয়াজ নসিহত সহ যাবতিয় দ্বিনি কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। হাদীস, ফিকাহ,নাহু-ছরফ,মানতেক ফিলসোফাহ সহ গুরুত্ব পুর্ণ কিতাবাদি পড়ান।বিশেষ করে তিরমিযি শরীফ,মুসলিম শরীফ দীর্ঘদিন ধরে দরস দেন।আবার যদি কখনও শাইখুল হাদিস আল্লামা সাঈদ আাহমদ সন্দিপীএদিক সেদিক যেতেন তখন বুখারী শরীফের দরস তার জিম্বায় দিয়ে যেতেন।
No comments:
Post a Comment